টেকইনফো এ-আই https://www.techinfoai.com/2022/06/meyeder-masik-bondho-howar-karon-somuho.html

অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ-মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে ডিম্বাশয়ের ত্রুটি বা সিস্ট, হরমোনের তারতম্যজনিত সমস্যা, অপুষ্টি। অপুষ্টির মানে কেবল ভগ্নস্বাস্থ্য নয়, শারীরিক স্থূলতা বা অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়াও অপুষ্টির লক্ষণ। কখনো কখনো সন্তান প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো মহিলাদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ সমূহ এবং এর সমাধান নিয়ে।

অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    মহিলাদের মাসিক হওয়ার কারণ

    অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারন সম্পর্কে জানা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে মানুষই জানে যে মাসিক বা পিরিয়ড মেয়েদের জন্য কত বেশী গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মেয়ের যদি অনিয়মিত পিরিয়ড হয় তাহলে এর ফলে পড়তে হতে পারে নানা রকম সমস্যায়।

    মাতৃত্ব ধারণের জন্য পিরিয়ড সঠিক সময়ে হওয়া অনেক বেশী জরুরি। অনিয়মিত পিরিয়ড বা মাসিক এর কারণে ডিম্বাসয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে, অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ, নিয়মিত না হওয়া ইত্যাদি সমস্যা গুলো দেখা যায়। অবিবাহিত অবস্থায় মেয়েদের যদি মাসিক বন্ধ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে করনীয় কি? মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় সকলেই অতিরিক্ত মানুষিক অবষাদে ভুগে থাকেন।

    আপনি যদি ভেবে থাকেন যে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই মা হতে পারবেন না বা ডিম্বাসয়ে কোনো রোগ বাসা বাধছে তেমন নয়। অনেক সময়ে অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে নানা কারণে মাসিক বন্ধ হতে পারে। অনিয়মিত পিরিয়ড এর লক্ষণ দেখা দিলে সরাসরি ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করলে আবার স্বভাবিক প্রক্রিয়া তৈরি করা যায়।

    অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    মহিলাদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    আপনারা হয়তোবা অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না যে সাধারণত ১৪-৪৬ বছর পর্যন্ত মেয়েদের ডিম্বাসয় কার্যক্ষমতা চালিয়ে যেতে পারে। এ সময় পর্যন্ত একটি মেয়ে চাইলে মা হতে পারে বা মা হওয়ার আশা পুরণ করতে পারে। এই সময়কাল এর মাঝে প্রতিমাসে মেয়েদের ডিম্বানু তৈরি হতে থাকে। সেটা যদি শুক্রানুর সংস্পর্শে না আসে তখন সেটা রক্তস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায় যেটা সাধারণ ভাবে আমরা মাসিক বা পিরিয়ড বলে থাকি।

    কখনো যদি লক্ষ্য করেন যে হঠাৎ করে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁর মানে ডিম্বানু তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটায়। সাধারণ ভাবে যদি ডিম্বানুতে কোনো মারাত্বক সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কিছু কারণ রয়েছে যেমনঃ অতিরিক্ত নেশাদ্রব্য পান করা। নেশা দ্রব্য ডিম্বানু তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটায় ফলে অনিয়মিত পিরিয়ড লক্ষ্য করা যায়। শরিরে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়া মাসিক বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ এর মধ্যে একটি।

    মহিলাদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ বেশ কিছু কারন রয়েছে, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিবে। যেগুলো দেখা দিলে অনিয়মিত মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত মানুষিক চাপ বা উদ্দিপনা থাকলে ডিম্বানু তৈরিতে সমস্যা হয়। রাতে স্বাভাবিক ভাবে ঘুম না আসলে, যৌনি পথ শুকিয়ে গেলে, শরিরে জ্বালা পোড়া শুরু হলে, শরিরে স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশী লোম গজানো শুরু করলে, ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম হলে ইত্যাদি বিষয় গুলোকে অবিবাহিত মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    আরও পড়ুনঃ নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

    ১। ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    আপনারা অনেকেই রয়েছেন যে মাঝে মাঝে নিজেদের শারিরীক পরিবর্তন খেয়াল করেন যেমন ধরুন, অনেক মেয়েদের হঠাৎ করেই ওজন অনেক বেড়ে যায় বা কমে যায়। ওজনের এই তারতম্যের কারণে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।

    ২। থাইরয়েড সমস্যা অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    থাইরয়েড এমন একটি সমস্যার নাম যা কিনা আপনার দেহের পুরো হরমোন কন্ট্রোল করে থাকে। এই থাইরয়েডের কারনেই অনেকের অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় জরজরিত হতে দেখা দেয়। আর এই থাইরয়েডের সমস্যার কারণে অনেকের মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।

    ৩। ডিম্বাশয়ের অপরিপক্বতা অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    অনেক সময় অল্প বয়সের মেয়েদের বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের ডিম্বাশয় ভালোভাবে পরিপক্ক হয় না। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে এই সমস্যা হয়। তাই এটি বলায় যায় যে ডিম্বাশয়ের অপরিপক্কতার কারণেই অনিয়মিত মাসিক হয়।

    ৪। অতিরিক্ত ব্যায়াম অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    masik bondho howar karon

    বর্তমানে অনেক মেয়েরাই রয়েছেন যারা কিনা নিজেদের ফিট রাখার জন্যে প্রয়োজনের অধিক শরীর চর্চা করে থাকেন। তাই যেসব মেয়েরা বেশি পরিমাণে ব্যায়াম করে তাদের মাসিকের সমস্যা হতে দেখা যায়। অনেকের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হয়ে থাকে যার কারণে অনেক সময় অনিয়মিত মাসিক হয়।

    অনিয়মিত ভাবে মহিলাদের মাসিক হওয়ার কারন এ অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মাসিক বন্ধ হওয়া মেয়েদের জন্য খুবই দুশ্চিন্তার ব্যাপার।মাসিক বন্ধ হলে বা মাসিকের কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    আরও পড়ুনঃ  কালো থেকে ফর্সা হওয়ার উপায় - 2022 

    অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার কিছু ঘরোয়া সমাধান

    মহিলাদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

    ১। আদার মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    আপনারা যদি না জেনে থাকেন তাহলে এই তথ্যটি জেনে রাখুন যে আদা অনিয়মিত পিরিয়ড (Period) ঠিক করার পাশাপাশি পিরিয়ড চলাকালীন পেটের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। আধা চা চামচ আদা(Ginger) কুঁচি এক কাপ পানিতে ফুটিয়ে নিন ৬ থেকে ৭ মিনিট। তারপরে এতে মেশান সামান্য চিনি বা মধু(Honey)। এরপরে মিশ্রণটি ছেঁকে নিন এবং দিনে তিনবার করে খাবেন। এই মিশ্রণটি এক মাস খেতে হবে।

    ২। হলুদ এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    আপনি যদি প্রাকৃতিক ভাবে অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারন গুলো থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে হালকা গরম দুধের সাথে মেশান ১/৪ চাচামচ হলুদ গুঁড়ো(Turmeric powder)। হালকা গরম বা কুসুম গরম থাকতেই খেয়ে নিন। প্রতিদিন খেলে অবশ্যই পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।

    ৩। ধনে এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    দুকাপ পানিতে এক চা চামচ আস্ত ধনে দিয়ে অল্প আঁচে পানিটা ফুটিয়ে নিতে থাকুন, যতক্ষণ না সেটা অর্ধেক হচ্ছে। পিরিয়ডের ডেট আসার আগের সপ্তাহ থেকে দিনে তিনবার এই পানি পান করুন।

    ৪। তুলসি পাতার মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    তুলসি পাতার রসের অসীম গুনাগুন রয়েছে আপনি প্রতিদিন এক চামচ তুলসি পাতার রস আর এক চামচ মধু(Honey) মিশিয়ে নিন, সাথে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন।

    ৫। তিল ও গুড় এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    এক মুঠো তিল টেলে নিয়ে এক চামচ গুড় এর সাথে মিশিয়ে বাটতে হবে। এই মিশ্রণ প্রতিদিন খালি পেটে খেতে হবে। আপনি প্রতিদিন নিয়মিত এই কাজটি করলে আপনার সমস্যার অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যাবে।

    ৬। দারুচিনি এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    দারুচিনি অনিয়মিত পিরিয়ডের পাশাপাশি পিরিয়ড চলাকালীন পেটের ব্যথাও কমাতে সাহায্য করে। আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া(Cinnamon powder) দুধের সাথে মিলিয়ে খেতে পারেন। অথবা নিয়মিত চায়ের সাথে দারচিনি দিতে পারেন।

    ৭। গাঁজর এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    গাঁজর আয়রনের একটি ভালো উৎস, যা শরীরের হরমোন ফাংশনকে সঠিকভাবে চলতে সাহায্য করে। অনিয়মিত পিরিয়ড এর ক্ষেত্রে এক গ্লাস গাঁজরের রস(Carrot juice) প্রতিদিন খেতে হবে তিনমাস পর্যন্ত ।

    ৮। মৌরি এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    দুই টেবিল চামচ মৌরি(Fennel) এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে সারারাত। পরদিন সকালে পানিটা ছেঁকে নিয়ে খেতে হবে। কার্যকর ফলাফল পেতে এক মাস নিয়মিত খেতে হবে মৌরি ভেজানো এই পানি।

    ৯। কুঁচি ধনে পাতা (Parsley) এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    ধনে পাতার রস পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে খুব উপকারী। ধনেপাতার রস(Coriander juice) খেতে না পারলে, ধনেপাতা বাটা খেতে পারেন ভাতের সাথে।

    ১০। করলার রসের মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    পিরিয়ডের সমস্যা সমাধানে করলার রস ও বেশ কার্যকরী। দিনে একবার বা সম্ভব হলে দুবার করলার রস খানে টানা কয়েক সপ্তাহ। এছাড়াও করলার রস ডায়াবেটিস(Diabetes) এর ক্ষেত্রেও বেশ উপকারী।

    ১১। ভিটামিন সি এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় ভিটামিন সি(Vitamin C) জাতীয় খাবার খুব জরুরি। পিরিয়ডের আগের সপ্তাহ থেকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রাখুন ডায়েটে।

    ১২। পুদিনা পাতা মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    একচামচ মধুর সাথে পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে দিনে তিনবার খেতে হবে একটানা কয়েক সপ্তাহ।

    ১৩। কাঁচা পেঁপে এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    নিয়মিত কাঁচা পেঁপের রস খেলে মাসিক নিয়মিত হয়। এছাড়াও কাঁচা পেঁপে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

    ১৪। অ্যালোভেরা এর মাধ্যমে অনিয়মিত পিরিয়ড সমস্যার সমাধান

    রূপচর্চার জন্য আমরা এলোভেরা ব্যবহার করে থাকি। তবে এলাবেরা রূপ চর্চার পাশাপাশি মাসিক নিয়মিতকরণ এ সাহায্য করে। মধুর সাথে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে খেলে মাসিকের সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়।

    মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে করণীয় কি

    অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ড হওয়া মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। পিরিয়ড নিয়মিত হয়ে গেলে মাসিক বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কম। পুর্বে নিয়মিত হলেও হঠাৎ যাদের মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তাদের ডাক্তার পরামর্শ গ্রহণ করা অনেক বেশী জরুরি। পিরিয়ডের জন্য ০৩ টি জিনিস দরকারী তা হলো ডিম্বাশয়, জরায়ু বা পিটুইটারিতে কোনো প্রকার সমস্যা তৈরি না হওয়া।

    এসব ক্ষেত্রে সমস্যা হলে কারণ নির্নয় করে সঠিক ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করলে পুনরায় মাসিকের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আপনার যদি এ সকল কারণ ব্যাতিত মাসিক বন্ধ হয়ে যায় ও অনিয়মিত হয়ে থাকে তাহলে নিচের বিষয় গুলো অনুযায়ী লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করুনঃ 

    ১। পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

    অতিরিক্ত পুষ্টি অভাবে অনেক সময় পিরিয়ড হতে বিলম্ব হয়। শরিরে অতিরিক্ত চর্বি ও সমস্যার কারণ। পরিমাণ মত সব কিছু খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আপনার শরীরের ভেতরে যদি ভিটামিন এর অভাব থাকে তাহলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। তাই আপনাকে নিয়ম করে পুষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহন করতে হবে।

    ২। পর্যাপ্ত পানি পান করা 

    আমরা জানি যে পানির অপর নাম হচ্ছে জীবন। তাই আমাদের প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার লিটার পানি পান করা অত্যান্ত জরুরি একটি বিষয়।

    পানি শুন্যতা দেখা দিলে ডিম্বাসয় তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। যার ফলে এই মাসে পিরিয়ড হলেও পরের মাসে বিলম্ব হয়। অনেক সময় স্বাভাবিক ভাবেই কয়েক মাস ধরেও এই পর্যায় ক্রম চলতে থাকে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি করতে হবে।

    ৩। প্রোটিন জাতীয় খাবার

    প্রতিদিন মাছ, ডিম, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি দেহে সুস্থতা বয়ে আনে। শারিরীক দুর্বলতা ও অসুস্থতা অনিয়মিত পিরিয়ড এর জন্য দায়ী। শরিরিক সুস্থতা নির্মিত হয় এমন সকল খাবার প্রতিদিন কার খাদ্যভ্যাসে যোগ করতে হবে। শরিরের রোগ প্রতিরোধ ও কার্যক্ষমতা কমে গেলে হঠাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    ৪। নিয়মিত ঘুম 

    অতিরিক্ত অনিদ্রা শরীরে নানা ধরণের সমস্যা তৈরি করে। অনির্দা এর কারণে অতিরিক্ত মানুষিক অবসাদ তৈরি হয়। অতিরিক্ত মানুষিক চাপ ও উদ্দিপনার কারণে শরিরের ডিম্বাণু সঠিক ভাবে কার্যক্রম করতে পারে না। যার ফলে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অনিয়মিত হওয়ার লক্ষন গুলো দেখা দেয়।

    আরও পড়ুনঃ চুল ঘন করার উপায় কি?

    মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম

    আসলে মাসিক  হলো সম্পূর্ণরূপে একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যাতে মানুষের কোন হাত নেই । মাসিক না হলে ঔষধ সেবন অথবা কোন কৃত্রিম উপায়ে মাসিক ঘটানো বা বন্ধ করা কোন  স্থায়ী  সমাধান হয় না । তবে যদি  একেবারেই কোন উপায় না থাকলে, তাহলে  আপনি মাসিক হওয়ার বিশেষ ঔষুধ গ্রহণ করতে পারেন।

    মাসিক নিয়মিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন কোম্পানির ঔষধ রয়েছে। 5mg মাসিক নিয়মিত করার ট্যাবলেটগুলো  আমাদের  শরীরের ন্যাচারাল হরমোনের ওপর কাজ করে থাকে এবং যাদের মাসিকের সমস্যা আছে তাদের  অনিয়মিত মাসিক থেকে মুক্তি করে দেয়।নিচে নিয়মিত মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম দেওয়া হলঃ

    ঔষধের নাম →কোম্পানি→প্রতি পিস মূল্য 

    1. Normens →Renata →6 Taka
    2. Ethinor → Eskayef →5 Taka
    3. Feminor →Acme → 5 Taka
    4. Menoral → Square →6.50 Taka
    5. Mensil N→HealthCare →7.50 Taka
    6. Remens →Populer →5 Taka
    7. Menogia → ACI → 6 Taka
    8. Norcolut →City Overseas →7.25 Taka
    9. Norestin →Nuvista →6.84 Taka
    10. Noteron → Incepta →5.5 Taka

    শেষ কথা অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে

    অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বা পিরিয়ড সঠিক ভাবে হওয়া অনেক বেশী জরুরি। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া গর্ভধারণ এর ক্ষেত্রে অনেক বেশী ঝুকিপূর্ণ। মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে গর্ভধারণ করা অসম্ভব। প্রতিটি মেয়ে গর্ভধারণ এর উপযোগী তৈরিতে প্রতি মাসে মাসিক বা পিরিয়ড নানা মুখি সহায্য করে। অনিয়মিত মাসিক বা বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুততার সাথে ডাক্তার পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। 

    অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ লেখা সম্পর্কে আপনার কোনো প্রকার মতামত থাকলে অবশ্যই অবশ্যই জানিয়ে দিবেন। অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    এই পোস্টের মাধ্যেমে আপনার যদি সামান্য উপকারে লেগে থাকে তাহলে আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। এতে করে তারাও আপনার মাধ্যেমে উপকারিত হবে। আমাদের নতুন নতুন পোস্ট পেতে নিয়মিত সাইটটি ভিজিট করুন এবং আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক, টুইটার পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

    অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

    0 Comments

    দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন emoji

    টেকইনফো এ-আই কী?