ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে খুবই আলোচিত একটি পেশা। লক্ষ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে। এখন যারা এ বিষয়ে অবগত নয় তাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে ফ্রিল্যান্সিং কাজটি কিভাবে করা হয়।
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করা হয় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাধ্যমে। অসংখ্য কাজ এর অন্তর্ভুক্ত। তাই কাজের ধরন বুঝে এবং বিবেচনা করে ল্যাপটপ কিনতে হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং, ওয়েব ডিজাইন এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন সহ আরো অনেক ধরনের কাজ রয়েছে যেগুলো ল্যাপটপ দ্বারা করা হয়ে থাকে।
সব ধরনের ল্যাপটপ দিয়ে আসলে এই সেক্টরের প্রতিটি কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই আজকের আমরা আপনাদের জানাতে এসেছি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে যে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো।কারণ এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্ধে পড়ে যায়। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে আলোচনা শুরু করা যাক। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।
ফ্রিল্যান্সিং কি?
ফ্রিল্যান্সিং অর্থ হল মুক্ত পেশা। কারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ে কারো অধীনে কাজ করতে হয় না। ইন্টারনেটের সহযোগিতায় বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে কাজ করা যায় ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দিয়ে। এ পেশায় কোন দায়বদ্ধতা নেই। যখন ইচ্ছে হয় কাজ করবেন আর না হলে করবেন না।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বিশেষ করে মুক্ত পেশার কারণে। আপনি কাজ না করলেও এক্ষেত্রে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। আর এই পেশায় এত এত কাজ রয়েছে যার দ্বারা পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।
তরুণ তরুণী থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষের পক্ষে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব। এই কাজে শুধু প্রয়োজন হয় ধৈর্য এবং যেকোনো কাজের উপর দক্ষতা। আশা করি ফ্রিল্যান্সিং কি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।
ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন কম্পিউটার ভালো
যারা ল্যাপটপের তুলনায় কম্পিউটার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে তাদের মনে এই চিন্তাটি অবশ্যই থাকে যে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন কম্পিউটার ভালো হবে।
আপনাদের সুবিধার্থে জানিয়ে দেই সর্বপ্রথম আপনাকে বাছাই করে নিতে হবে যে ফ্রিল্যান্সিং এর কোন সেক্টরটিতে আপনি কাজ করবেন। কারণ বিভিন্ন ধরনের কাজ অনুযায়ী কম্পিউটার বাছাই করতে হবে। কিছু সাধারণ কাজ রয়েছে যেগুলো যে কোন কম্পিউটার দাঁড়াই করা যায়।
কিন্তু এমন কিছু কাজ রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে যেগুলো ভালো মানের কম্পিউটার ছাড়া করা সম্ভব নয়। সাধারণ কম্পিউটার হলে কিছুদিন যেতে না যেতেই কম্পিউটার এর গতি কমে যায়। তাই প্রথমে আপনার কাজটিকে নির্বাচন করতে হবে এরপর উক্ত কাজ অনুযায়ী কম্পিউটার বাছাই করতে হবে।
কারণ আপনার কাজের ওপর ভিত্তি করবে কম্পিউটারের ধরন। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো এটি নির্দিষ্ট বলা সম্ভব নয়। আশা করি উত্তরটি পেয়ে গেছেন।
গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো?
ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় একটি কাজ হল গ্রাফিক্স ডিজাইন।গ্রাফিক্স ডিজাইন শুরু করার আগেই মনের মধ্যে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন আসতে পারে। যেমন-গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য কম্পিউটার ভালো হবে নাকি ল্যাপটপ? কেমন কনফিগারেশন হতে হবে বা কত দামের ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিনতে হবে? এ সকল সাধারণ বিষয় গুলো নিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যায়। তাই আজ আমরা আপনাদের জানাবো গ্রাফিক্স ডিজাইন এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো এ বিষয়ে।
-
মাদারবোর্ডঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন এর ক্ষেত্রে উন্নত মানের এবং ভালো
মাদারবোর্ড ব্যবহার করতে হবে। বাজারে অনেক ভালো দামের মাদারবোর্ড পাওয়া
যায়। আপনার ক্রয়ের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো ব্র্যান্ডের একটি
মাদারবোর্ড কিনতে পারেন।
- প্রসেসরঃ বিভিন্ন ডিজাইনের জন্য ভালো মানের এবং ব্র্যান্ডের প্রসেসর ব্যবহার করতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে বলে দেই intel প্রসেসরটি বর্তমান বাজারে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এছাড়াও অন্যান্য অনেক ব্রান্ড রয়েছে আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিতে পারেন।
- র্যামঃ গ্রাফিক ডিজাইনের ক্ষেত্রে র্যাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, এটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রসেসিং এর কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রসেসিং হয়ে যায়। ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট হয়ে গেলে তার জন্য আলাদা র্যাম ব্যবহার করার জরুরি।
-
মনিটরঃ যেহেতু গ্রাফিক্স এ বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনের কাজ করতে হয়।
সেই ক্ষেত্রে ২২ ইঞ্চি মনিটর ব্যবহার করা সফটওয়্যার ভালো।
বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ফুল এইচডি মনিটর ব্যবহার করে থাকে।
-
হার্ডডিক্সঃ কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে মোটামুটি সবাই
ল্যাপটপে বা কম্পিউটারে হার্ডডিক্স ছাড়াও ssd কার্ড লাগিয়ে থাকে। গ্রাফিক্সে ফটোশপের মত ভারি
ভারি কাজ করা হয় যার ফলে অতিরিক্ত হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা জরুরী হয়ে
পড়ে।
-
গ্রাফিক্স কার্ডঃ আপনি চাইলে গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে
পারেন।গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
তবে আপনারা চাইলে মাদারবোর্ড এর সঙ্গে থাকা যে গ্রাফিক্স কার্ডটি থাকে
সেটি দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো এই প্রশ্নটি আসলে এক কথায় কোন
উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এটি ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো
ডিজিটাল মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সিংয়ের বৃহৎ একটি অংশ। অনেকেরই ধারণা যে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতিটি কাজই হাই কনফিগারেশন এর ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দিয়ে করতে হয়। আবার অনেকে তথ্য খুঁজতে থাকে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো।কিন্তু এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজগুলো করার জন্য মূলত সাধারণ কম্পিউটার বা ল্যাপটপই যথেষ্ট। এছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজগুলো স্মার্টফোন দিয়েও করা যায়। তাই বলে যে এই কাজগুলোতে কম অর্থ উপার্জন করা যায় এমনটি কিন্তু একেবারেই নয়।
দক্ষতার সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করে অনেক টাকা উপার্জন করা সম্ভব। আরেকটি কথা যেটি না বললেই নয়। এই সেক্টরের কাজগুলো যে শুধু বাইরে দেশের বায়ারদের সাথে এমনটি নয়। লোকাল মার্কেটপ্লেসেও এর চাহিদা ব্যাপক এবং কোন অংশে কম নয়।
তাই যদি প্রশ্ন হয় ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো তবে উত্তর একটাই যে সাধারণ ল্যাপটপ বা কম্পিউটার।
কনটেন্ট বা আর্টিকেল লেখার জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো?
ফ্রিল্যান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি কাজ হল কনটেন্ট বা আর্টিকেল লেখা। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে যে কনটেন্ট বা আর্টিকেল লেখার জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো বা সুবিধা জনক। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক।
আর্টিকেল বা কনটেন্ট অথবা এক কথায় লেখালেখি করার জন্য সাধারণ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ সবচেয়ে ভালো। কারণ, এই সাধারন কাজ গুলোর জন্য ল্যাপটপের কোয়ালিফিকেশন কোন প্রভাব বিস্তার করে না। তাই একটি সাধারণ ল্যাপটপ দিয়েই এ কাজগুলো অনায়াসে করা যায়।
ওয়েব ডিজাইনের জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো?
ফ্রিল্যান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হল ওয়েব ডিজাইন। এই কাজটি যদিও একটু কঠিন তবে খুবই লাভজনক। ভালোভাবে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ হয়ে এই সেক্টরে খুব দ্রুতই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এখন আসি মূল কথায়।
যারা ওয়েব ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে চায় তারা সর্বপ্রথম চিন্তা করে যে ওয়েব ডিজাইন এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো হবে। তাদের উদ্দেশ্যে কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো-
-
ওয়েব ডিজাইনের জন্য মোটামুটি ভালো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ হলেই চলবে।
-
যদি মাদারবোর্ডের কথা বলি তবে গিগাবাইট সবচেয়ে ভালো। এটি ব্যবহার করা যেতে
পারে।
-
ওয়েব ডিজাইনের কাজ করতে হলে কাজের গতি ভালো রাখতে হবে।
তাই ল্যাপটপ কোর আই থ্রি হলেও কোন সমস্যা নেই চলবে।
- ওয়েব এর জন্য মনিটর সাধারণের চেয়ে একটু বড় নেয়াই ভালো।
-
ওয়েব ডিজাইনের জন্য ল্যাপটপের চেয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করা বেশি ভালো । কারণ
ল্যাপটপের তুলনায় কম্পিউটারের সার্ভিস ভালো পাওয়া যায়।
ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে আগে নিজের
কাজের গন্তব্য খুঁজে বের করা উচিত।
ল্যাপটপের মডেল কিভাবে দেখব?
বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রতিটি ঘরে ঘরে ল্যাপটপ রয়েছে। এমন কোন ব্যক্তি হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না যে ল্যাপটপ চিনে না। কিন্তু, এমন অনেক ব্যক্তি পাওয়া যাবে যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কিন্তু ল্যাপটপ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই। বা ধারণা থাকলেও খুব বেশি নয়। অনেকেই রয়েছে যাদের হাতে ল্যাপটপ আছে কিন্তু ল্যাপটপের মডেল জানা নেই।
ল্যাপটপের মডেল জানতে হলে ল্যাপটপ কিনতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ইন্টারনেটে সার্চ করে বিস্তারিত জানার প্রয়োজন আছে। কারণ এখন ইউটিউব বা গুগলে সার্চ করলেই আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।
এছাড়াও ল্যাপটপের বক্সে সম্পূর্ণ লেখা থাকে ল্যাপটপ সম্পর্কিত সকল তথ্য । আবার ল্যাপটপের গায়েও ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখবেন উল্লেখ করা থাকে। ল্যাপটপের মডেল কিভাবে দেখব আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো-শেষ কথা
ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত তথ্য জানার জন্য অসংখ্য মানুষ এখন অনেক কৌতূহল। কারণ এই পেশাটি অজস্র মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে। অনেক ব্যর্থ মানুষ চেষ্টা করে এই পেশায় সফলতা অর্জন করে স্বাবলম্বী হয়েছে। আর যারা নতুন করে এ কাজে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তাদের মনে হয়েছে অনেক প্রশ্ন। যেমন-কোন সেক্টরে কেমন ল্যাপটপ ব্যবহার করব।
আসলে প্রতিটি কাজের ধরন আলাদা, তাই ভিন্ন ভিন্ন কাজে ভিন্ন রকম ল্যাপটপ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন কাজটি নিয়ে আপনি এগিয়ে যাবেন। এরপর না হয় নির্দিষ্ট ল্যাপটপটি নির্বাচন করুন।
প্রিয় পাঠক বৃন্দ, ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কোন ল্যাপটপ ভালো এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর আজ আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। আশা করি আপনারা আর কোন দ্বিধার মধ্যে থাকবেন না এবং বিবেচনা করে আপনার কাঙ্খিত ল্যাপটপটি বেছে নিবেন। ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আপনারা সফল হন এই কামনা করি। লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

0 মন্তব্যসমূহ